Brother Wab BD

NATIVE VIDEO ADS ON WECHAT MOMENTS – AXIS Media Hong Kong

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে, ৩ ঘণ্টায়ই রোগী সুস্থ?

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে, ৩ ঘণ্টায়ই রোগী সুস্থ?পৃথিবী আজ অসহায়। করোনা ভাইরাসের তোপের মুখে বিশ্বের মোড়ল দেশগুলোরও মাথা নুইয়ে দিচ্ছে। অসহায়ের মতো মানুষের মৃত্যু দেখছে। কিন্তু করার মতো তেমন কিছুই করতে পারছে না। করোনার কালো ছায়া মানুষের এই গ্রহটিকে যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন যমপুরীতে পরিণত করছে ঠিক এমনই সময়ই কানে এলো বস্তির বার্তা! বাতাসে খবর উড়ছে, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে। তবে কি সত্যিই করোনার টিকা আবিষ্কার হয়ে গেছে?

প্রশ্নের উত্তরটা জানতে সময় নিতে হবে। তার আগে বলে নেয়া ভালো, সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের খবর বের হওয়ার পর মানুষের মাঝে থানকুনিপাতা খাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। করোনার ছোবল থেকে বাঁচতে অনেকেই অতিরিক্ত থানকুনিপাতা খেয়ে অসুস্থও হন। কেউবা থানকুনিপাতা মনে করে গাঁজার পাতা চর্বন করে হাসপাতালে পর্যন্ত গিয়েছেন। শেষে জানা গেল, এসব কথায় কান দেয়া যাবে না। সব ভুয়া।

এবার করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথার ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। কারণ, গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের দিকে। বিশ্ববাসীর চোখে একটাই জিজ্ঞাসা- কবে আবিষ্কার হবে ভ্যাকসিন?

গত ক’দিন ধরে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ওয়ালে একটি বার্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। খবরটি এমন- ‘বিশাল খবর! করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি! ইনজেকশন পুশ করার মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ হবেন করোনা আক্রান্ত রোগী! এটি আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, Roche Medical Company আবিষ্কৃত এই ভ্যাকসিনটি আগামী রবিবার থেকে বাজারজাত হবে এবং কোম্পানি থেকে লাখ লাখ ডোজ তৈরি করা হচ্ছে।’

গত দু-তিন দিনে এই বার্তাটি লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ফেসবুক, টুইটার পেজে শেয়ার করেছেন। এ নিয়ে ঘোলা জলে মুখ দেয়ার প্রয়াসও চলছে। তবে বিশ্বের মূলধারার কোনও গণমাধ্যম এখনও এমন সংবাদ প্রকাশ করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি এখনও।

আসলে মূল রহস্যটা কি? সোস্যাল মিডিয়ায় যে বার্তাটি ঘুরছে তা আসলে কোনও ভ্যাকসিন নয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Sugentech এর উৎপাদিত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার একটি কিট। যার ব্র্যান্ড নেম SGTi-flex COVID-19 IgM/IgG hf COVID-19 IgM/IgG.

এর আগে গেল ১৭ মাস যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে কিট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু মানুষ নিছক মজার ছলে না বুঝে ওই প্রতিবেদনের ছবি ছড়িয়ে দেয়। তবে এটা ঠিক যে, করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে বিশ্বব্যাপী জোর গবেষণা চলছে।

এদিকে মার্কিন জৈব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডার্না ইনকরপোরেশনের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন শিগগিরই স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে পৌঁছুবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর-নভেম্বরের দিকেই পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিনটি নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে। ভ্যাকসিনটি কার্যকারিতায় সফল হতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হবে।

এ বিষয়ে মডার্না ইনকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ব্যানসেল গোল্ডম্যান স্যাকস গেল শুক্রবার জানিয়েছেন, আপাতত ভ্যাকসিনটি জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

Post a Comment

0 Comments